
আজ থেকে ৯৫ বছর আগে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদে’র মাধ্যমে বাংলা ইসলামি সংগীতের বিপ্লব ঘটে। গানটি করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় প্রখ্যাত গায়ক আব্বাসউদ্দীনকে।
প্রযোজনা সংস্থা গ্রামোফোন ইসলামি গানের পক্ষপাতী ছিল না। বহু কষ্টে আব্বাসউদ্দীন আহমদ রাজি করান কর্তৃপক্ষকে। শিল্পীর চেষ্টা বিফলে যায়নি। প্রকাশের পর ‘রমজানের ওই রোজার শেষে’ তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ফলে গ্রামোফন ইসলামি গানে আগ্রহী হয়।
এ নিয়ে আত্মজীবনী ‘দিনলিপি ও আমার শিল্পীজীবনের কথা’ বইটিতে আব্বাসউদ্দীন লিখেছেন, ‘এরপর কাজীদা লিখে চললেন ইসলামি গান। আল্লাহ-রাসুলের গান পেয়ে বাংলার মুসলমানের ঘরে-ঘরে জাগল এক নব উন্মাদনা।’
লিখেছেন, ‘‘যারা গান শুনলে কানে আঙুল দিত, তাদের কানে গেল, ‘আল্লা নামের বীজ বুনেছি’, ‘নাম মুহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল’। কান থেকে হাত ছেড়ে দিয়ে তন্ময় হয়ে শুনল এ গান, আরও শুনল, ‘আল্লাহ্ আমার প্রভু আমার নাহি নাহি ভয়’। মহররমে শুনল মর্সিয়া, শুনল ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এল রে দুনিয়ায়’। ঈদে নতুন করে শুনল, ‘এল আবার ঈদ ফিরে এল আবার ঈদ, চল ঈদগাহে’। ঘরে-ঘরে এল গ্রামোফোন রেকর্ড, গ্রামে-গ্রামে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল আল্লাহ্-রাসুলের নাম।’’
গায়কের কথায়, ‘‘কাজীদাকে বললাম, ‘কাজীদা, মুসলমান তো একটু মিউজিক-মাইন্ডেড হয়েছে। এবার তরুণ ছাত্রদের জাগানোর জন্য লিখুন।’ তিনি লিখে চললেন, ‘দিকে দিকে পুনঃ জ্বলিয়া উঠিছে’, ‘শহীদী ঈদগাহে দেখ আজ জমায়েত ভারি’, ‘আজি কোথায় তখতে তাউস, কোথায় সে বাদশাহি’।’’
আব্বাসউদ্দীনের আত্মজীবনী থেকে এটা স্পষ্ট যে তার ও কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরেই বাংলা ভাষায় ইসলামি গানের জাগরণ ঘটে।

বিনোদন ডেস্ক 

















