, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আস্থা সংকটে দুই প্রতিবেশী, তলানিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক

  • বার্তাডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬১ পড়া হয়েছে

আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের কথা বললেও বাস্তবে একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুক্রবার দিনভর সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার পর পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে দুই দেশ। সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দেশটির সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে হবে। ইসলামাবাদের ভাষ্য, সীমান্তে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় আফগান তালেবানদের। নিজেদের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাবুলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ সংকট ও দ্বন্দ্বের দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, সীমান্ত উত্তেজনার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা বাস্তবতা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবানদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন এবং একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল রয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের দাবি, এ সংঘর্ষে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তালেবানদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

তবে আফগানিস্তান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তালেবান সরকার জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান, কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফল বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, অভিযানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানা হয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও দাবি করেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে আটক করেছে। একই সঙ্গে তার দাবি, এই হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।

দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী তথ্য ও দাবির কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে স্পষ্ট যে, সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং যে কোনো সময় তা আরও বড় আকার নিতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা। আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও বাস্তবে দায় চাপানোর রাজনীতি ও সামরিক অবস্থানই এখন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি

জনপ্রিয়

আস্থা সংকটে দুই প্রতিবেশী, তলানিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক

প্রকাশের সময় : ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের কথা বললেও বাস্তবে একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুক্রবার দিনভর সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার পর পৃথক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে দুই দেশ। সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দেশটির সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে হবে। ইসলামাবাদের ভাষ্য, সীমান্তে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় আফগান তালেবানদের। নিজেদের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাবুলের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ সংকট ও দ্বন্দ্বের দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, সীমান্ত উত্তেজনার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা বাস্তবতা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবানদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন এবং একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল রয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের দাবি, এ সংঘর্ষে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তালেবানদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

তবে আফগানিস্তান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তালেবান সরকার জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান, কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফল বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, অভিযানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানা হয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও দাবি করেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে আটক করেছে। একই সঙ্গে তার দাবি, এই হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।

দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী তথ্য ও দাবির কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে স্পষ্ট যে, সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং যে কোনো সময় তা আরও বড় আকার নিতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা। আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও বাস্তবে দায় চাপানোর রাজনীতি ও সামরিক অবস্থানই এখন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি