
দূরদেশের পাখিদের ডানা মেলার আহ্বান নিয়ে আসে শীতকাল। এ মৌসুমেই দেশের নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে থাকে। কীভাবে যেন সেই সব পরিযায়ী পাখিরা উপলব্ধি করে, তারা এখনই ডানা মেলার চূড়ান্ত ক্ষণে পৌঁছেছে। এভাবেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলে পরিযায়ী পাখিরা।
পাখিবিজ্ঞানীরা দূরদেশের উদ্দেশ্যে ডানা মেলা এমন সব পাখির নাম দিয়েছেন ‘মাইগ্রেটরি বার্ড’, অর্থাৎ পরিযায়ী পাখি।
পাখিটির শারীরিক বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৭৫ গ্রাম।
ব্রিডিং পিরিয়ডে (প্রজননকাল) এদের পিঠে বড় সাদা তিলা, ঘাড়ে ও বুকের ওপরের অংশে বাদামি ডোরা দেখা যায়। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন বলে জানান তিনি।
সবুজ বাটান পাখিটির স্বভাব সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, মজার বিষয় হলো-বিরক্ত হলে এরা মাথা ওঠানামা করে রাগ প্রকাশ করে। ওড়ে যাওয়ার সময় বাঁশির মতো তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। লতাপাতায় ঘেরা অগভীর মিঠাপানির জলাভূমি, নদীর পাড়, বর্জ্য রাখার জায়গা, ছোট পুকুর, ডোবা, সরু খাদ ও পাহাড়ি নদীতে এদের বিচরণ দেখা যায়। অগভীর পানিতে হেঁটে নরম কাঁদায় ঠোঁট ঢুকিয়ে এরা খাবার খায়।
শামুক ও চিংড়ি জাতীয় প্রাণী, কেঁচো, পানির অমেরুদণ্ডী প্রাণী ও উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে সবুজ বাটানের খাদ্যতালিকায়। এপ্রিল-জুন এদের প্রজনন মৌসুম। তখন এরা সাইবেরিয়াতে অন্য পাখির বাসায় তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে বলে জানান এই পাখি গবেষক।

বার্তাডেস্ক 
















